“ভারতে ধর্ম মানে সহিষ্ণুতা” অশোকের বক্তব্যে হাততালিতে ফেটে পড়ল চীনের অডিটোরিয়াম!




কোনও বাঙালি মেয়রের বক্তব্যে হাততালিতে ফেটে পড়ছে চিনের সব থেকে বড় মিডল স্কুলের অডিটোরিয়াম, এই ছবি মনে হয় ইতিহাস ঘাঁটলেও দেখা যাবে না। আর সেটাই হল শিলিগুড়ির মেয়র অশোক ভট্টাচার্যের সৌজন্যে।

চিন সরকারের আমন্ত্রণে, চিনের খরচে সে দেশে গিয়েছেন শিলিগুড়ির মেয়র অশোক ভট্টাচার্য। সঙ্গে রয়েছেন শিলিগুড়ি পুরনিগমের চেয়ারম্যান দিলীপ সিং ও মেয়র পারিষদ শরদিন্দু চক্রবর্তী। অশোক ভট্টাচার্যের সফরের পুরো খরচই দেওয়া নয়, তাঁদের সফরে যাতে কোনও অসুবিধা না হয় সেদিকে নজর রেখে চীনের পক্ষ থেকে দোভাষীও দেওয়া হয়েছে সারাক্ষণের জন্য।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার চিনের সব থেকে বড় মিডল স্কুল নানজিংয়ে যান অশোক ভট্টাচার্য। সেখানে প্লাকার্ড হাতে পডু়য়ারা তাঁদের স্বাগত জানান। তাতে লেখা “শিলিগুড়ির মেয়র অশোক ভট্টাচার্যকে স্বাগত”। চিনের অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তায় অভিভূত অশোক ভট্টাচার্য। নানজিং স্কুলের পড়ুয়াদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন। সেখানেই তাঁর কথা সম্মোহিতের মত শুনতে থাকেন পড়ুয়ারা। অশোক ভট্টাচার্যকে এক চৈনিক পড়ুয়া বলেন, চিন তো ভারতের থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞানে এগিয়ে। একথা মেনে নিয়ে অশোক ভট্টাচার্য পাল্টা বলেন ভারত কিন্তু ইংরেজি শিক্ষায় এগিয়ে রয়েছে। চিন যদি চায় ভারত ও চিন পরস্পরকে এই দুই বিষয়ে সাহায্য করতে পারে। আর এক ছাত্রী ধর্ম নিয়ে তাঁদের অবস্থান জানতে চান। অশোকবাবু বলেন, ভারতে অনেক ধর্ম, তবে তাঁদের কাছে ধর্ম মানে সহিষ্ণুতা। এই উত্তর শুনেই গোটা অডিটোরিয়াম হাততালিতে ফেটে পড়ে।

এই স্কুলে প্রায় আঠারো হাজার ছাত্রছাত্রী পড়েন। বিশ্বে যেকটি বিষয়ে পড়াশোনা হয়, তার প্রায় সবকটিই এই স্কুলে পড়ানো হয়। অশোক ভট্টাচার্যের চোখে গোটা স্কুলে কোথাও কোনও খুঁত ধরা পড়েনি। এত বিশাল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এত সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে, তা দেখে মুগ্ধ হয়ে গেছেন তাঁরা।
অশোক ভট্টাচার্য বলেন, এত দ্রুত ও এত সুন্দরভাবে কোনও একটা দেশ যে উন্নতি করতে পারে, তা চিনকে না দেখলে বিশ্বাস করা শক্ত।






Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*