যাদের বিরুদ্ধে জঙ্গিয়ানার অভিযোগ, তাদের সঙ্গে মমতাদিকেই দেখা যায় কেন? নজিরবিহীন আক্রমণ কুনালের




যাদের বিরুদ্ধে জঙ্গিয়ানার অভিযোগ, তাদের সঙ্গে মমতাদিকেই দেখা যায় কেন??

মমতাদি বললেন বিমল গুরুংয়ের জঙ্গিযোগ আছে। টিভিতে দেখলাম। পুলিশও এটা প্রতিষ্ঠা করার মতোই খবর বাজারে ছাড়বে।

আমি বলছি, বিশ্বাস করবেন না। অবিশ্বাসও করবেন না।
মাননীয় পাঠকপাঠিকা, এখন প্রেসিডেন্সি জেলের সেলে বন্দি একজনের কথা ভাবুন।
ছত্রধর মাহাতো।
জঙ্গলমহলের আন্দোলনের সময় তাঁর সাহায্যেই মমতাদি আর তৃণমূল নেতাদের এলাকায় প্রবেশ। ছত্রধরের সঙ্গে বহু যৌথ কর্মসূচি। সিপিএমবিরোধী আন্দোলন। তখন মমতাদি বলতেন, মাও-ফাও বলে কিছু নেই। কেন্দ্রীয় বাহিনী জঙ্গলমহল থেকে দূর হঠো।
পরে, এই ছত্রধর মাহাতোকে বলা হল দেশদ্রোহী। ইউ এ পি এ দেওয়া হল। পরিবর্তনের বাংলায় ছত্রধর জেলবন্দি থেকে গেলেন। আজও তিনি কলকাতার কারাকুঠুরিতে আর তাঁকে ব্যবহার করে যিনি বা যাঁরা জঙ্গলমহলে রাজনীতি করলেন তাঁরা আজ মসনদে। ছত্রধর এক কঠিন জীবনে।
আমার প্রশ্ন, যদি ছত্রধর সত্যিই দেশদ্রোহী আন্দোলনে যুক্ত হন, তাহলে একই অভিযোগ কেন থাকবে না সেদিন তাঁর মঞ্চের সহকর্মীদের বিরুদ্ধে? ছত্রধর এখন খারাপ ?
এবার বিমল গুরুং!!! জঙ্গিযোগ, নানা অভিযোগ স্বয়ং মমতাদির মুখে।
বিমলকে কে ব্যবহার করেছে? কে বৈঠক করেছে? কে যৌথ সভা করেছে? মমতাদি, আপনি করছেন।
মমতাদি, আপনার হাতে পুলিশ, প্রশাসন, গোয়েন্দা। আজ বলছেন অস্ত্র, জঙ্গি, বিদেশী যোগাযোগ। এতদিন আপনার পুলিশ কী করছিল? সরকারি টাকায় এতবার পাহাড় ঘোরেন, সঙ্গে পুলিশ, আমলার বাহিনী। এতদিন কেউ খবর রাখল না বিমলের জঙ্গিযোগাযোগ।
হয় এটা মিথ্যে, না হলে এর দায় আপনারও। কেন এতদিন গুরুংয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কেন পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা?? আজ হঠাৎ মারাত্মক অভিযোগ।
জঙ্গলমহলের “ইউজ অ্যান্ড থ্রো” পাহাড়েও!! যাদের ব্যবহার করে এত হাসির প্রচার, তাদের গায়ে জঙ্গি তকমা দিয়ে নিজের দায় এড়িয়ে হাত মুছে ফেলা !!
ছত্রধরের পুনরাবৃত্তির ইঙ্গিত গুরুংকান্ডে।
মমতাদি শুধু এই প্রশ্নটার জবাব দিন, যাদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ আনতে হয়, তাদের সঙ্গে একসময় আপনারই সক্রিয় উপস্থিতি দেখা যায় কেন?






Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*