আজ যদি মুসলিম মৌলবাদির হাতে মরেন কোন লেখক, সাংবাদিক, কবি; প্রতিবাদ করবেন তো?




গৌরী লাঙ্কেশকে খুন করা নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া দিলেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

তিনি লিখেছেন
“গৌরী লাঙ্কেশকে কে মেরেছে তা নিয়ে এখনও তর্ক চলছে। কেউ বলছে হিন্দুত্ববাদি, কেউ বলছে নক্সাল। হিন্দুত্ববাদের বিরুদ্ধে ছিলেন গৌরী, ওরা মানহানির মামলা করে গৌরীকে ফাঁসিয়েওছিল। ছ মাসের জেলও হয়ে গিয়েছিল। জামিনে ছিলেন গৌরী। ওদিকে আবার নক্সালদের সঙ্গেও একটা গন্ডগোল চলছিল তাঁর। দুজন নক্সালকে নাকি উনি মেইনস্ট্রিমে নিয়ে এসেছিলেন। এ কারণে নক্সালদের অনেকের ভীষণ রাগ ছিল ওঁর ওপর। বামরা বলছেন, যেভাবে ডানপন্থী হিন্দু মৌলবাদ-বিরোধী মুক্ত- চিন্তক দাভোল্কার, পানসারে, আর কাল্বুর্গিকে, মোটর সাইকেলে এসে, বুক বা মাথা লক্ষ করে গুলি করা হয়েছে , সেভাবে গৌরিকেও। সুতরাং খুনীরা হিন্দুত্ববাদি না হয়ে যায় না।

আমি যখন গৌরী হত্যার খবরটা শুনি, গা হাত পা কীরকম ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল। কী সহজে কাউকে মেরে ফেলা যায় এ দেশে। কারো কথা বা আচরণ পছন্দ হলো না তো মেরে ফেলো। এত অসহিষ্ণুতা ভারতে কবে থেকে এলো। হিন্দু আর বৌদ্ধ ধর্ম — ইসলাম , ক্রিশ্চান আর ইহুদি ধর্মের চেয়ে সহনশীল এবং উদার — এরকম জানতাম একটা সময়। কিন্তু ভারতে কট্টর হিন্দুদের এমন গোমাংস খেলে হত্যা করো, হিন্দুত্ব বিরোধী কথা বললে হত্যা করো — আমাকে সত্যিই ভয় পাইয়ে দিচ্ছে। ওদিকে বার্মার বৌদ্ধরা, এমন কী বৌদ্ধ ভিক্ষুরাও নিরীহ মানুষের ওপর অকথ্য অত্যাচার করছে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে জিহাদি সন্ত্রাসী আছে, কিন্তু সবাই তো সন্ত্রাসী নয়। তাদের মানবাধিকার কেন লঙ্ঘিত হবে। এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কেউ নেই।

বলছিলাম গৌরীর কথা। তাঁর হত্যার প্রতিবাদ হচ্ছে সারা দেশে। এমন কী ভারতীয় জনতা পার্টির কয়েকজন বলেছেন, অপরাধীকে কঠিন শাস্তি দিতে হবে। দেখে ভালো লাগে মানুষ যে এত সচেতন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে এত মুখর। এও ভাবছি, আজ যদি কেউ মুসলিম মৌলবাদির হাতে মরেন? কোনও লেখক, কবি, সাংবাদিক? তাহলে যেভাবে উদারপন্থী, বামপন্থী, শিল্পী সাহিত্যিক– গৌরী হত্যার প্রতিবাদ করছেন এখন, সেভাবে কি প্রতিবাদ করবেন? উত্তরটা হলো, করবেন না। দুঃখটা এখানেই।”






4 Comments

  1. কিন্তু তসলিমা যেটি বোঝেন না, আমাদের দেশ শাসন করছ হিন্দু মৌলবাদীরা, মুসলিমরা নন। তাই আমাদের দেশে হিন্দু মৌলবাদীদের নিন্দাই বেশি হবে, যেমন তার দেশে হবে মুসলিম মৌলবাদীদের। খুবই স্বাভাবিক, এ হচ্ছে ক্ষমতার প্রতি প্রত্যাহ্বানের প্রশ্ন। নিছক ধর্মান্ধতা নয়।

    • এটা একেবারে বাজে কথা, দেশের সংবিধানের কি পরিবর্তন হয়েছে, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার দেশ শাসন করছে, আর হিন্দু মৌলবাদ কি আমাকে বোঝান তো, হিন্দুদের তো এক বই, এক বার্তাবাহকের ধারণা নেই তাহলে মূল একটা মতবাদ নেই, অনেক মতবাদের সমাহার, সেখানে এমনিই মৌলবাদী হওয়া সম্ভব নয়, আর আপনারা তো আন্তর্জাতিক, আপনারা সারা বিশ্বের সাপেক্ষে দেখুন কারা সংখ্যাগুরু এবং কারা বিপদজনক, কারা আবেগে আঘাত লাগলে বেশী প্রতিক্রিয়া দেয়, এদেশেও একই ব্যাপার, আলাদা কিছু নয়

      • আপনাদেরই খুব দরকার, রক্ষা করুন এই সমাজ কে , এই দেশ কে , ওরা তো ঘাড়ের উপর, তসলিমা নাসরিন রা actively কাজ করছেন, West bangal 40% area out OF control, please can do .

  2. কে তসলিমা নাসরিন? তার মন্তব্যকে এত গুরুত্ব দিতে হবে কেন? ঊনি নিজের দেশের বিরুদ্ধে এবং নিজের ধর্মের বিরুদ্ধে ঘৃণা পোষণ করতেই পারেন। বস্তুতঃ ওনার যে টুকু পরিচিতি তা ওই ঘৃণারই ফসল। অন্যদেশের রাজনীতি নিয়ে এত কথা বলার অধিকার ওনাকে দেয় কে? এবং সেটাও মূর্খের মতো কিছু না জেনে মন্তব্য। মৌলবাদী মানে মৌলবাদী – তার হিন্দু মুসলমান ভেদ করতে যাওয়াটাই মূর্খতা। আমাদের দেশে চলছে একটা মৌলবাদী সরকার, তাই তাকে নিয়ে কথা হচ্ছে। এর পরে যদি এখানেই জামাত-এর সরকার আসে তাকে নিয়েও একই অভিযোগ থাকবে এবং একই ভাবে কথা হবে। সেটাই গণতন্ত্রের শক্তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*