Editorial

“রাহুল গান্ধী আর ‘পাপ্পু’ নেই”! নজরবন্দি গুজরাট, ম্যাথু স্যামুয়েলের কলমে। Exclusive

গুজরাট নির্বাচনের ফলাফল, পোস্ট এডিট ম্যাথু স্যামুয়েলের কলমে

ম্যাথু স্যামুয়েলঃ তাহলে গুজরাত ভোটের ফলস্বরূপ আমরা কী দেখলাম? ২০১৯-এর ভোটে নরেন্দ্র মোদি পরিচালিত ভারতীয় জনতা পার্টিকে জিততে হলে বেশ বেগ পেতে হবো, কারণ রাহুল গান্ধী আর ‘পাপ্পু’ নেই, এবং তাঁর নেতৃত্ব অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। বলাই যায়, আগামী ভোটে রাহুল গান্ধী যথেষ্ট শক্তিশালী বিপক্ষ হিসাবে নরেন্দ্র মোদির বিপরীতে লড়বেন। দুই পক্ষে কোনও অযাচিত ঝামেলা ছাড়াই ২০১৯-এর ভোটের সেমিফাইনাল হয়ে গেল। কানের পাশ দিয়ে বিজেপির জিত হল বটে, কিন্তু কংগ্রেসও পাল্লা দিল প্রায় সমান সমান। ২০১৮-র সেমিফাইনাল ভোট আরও ভালো ইঙ্গিত দেবে ভবিষ্যতের রাষ্ট্রনেতা নির্বাচনের।
সংবাদমাধ্যমের এক্সিট পোল কোনও কাজে আসেনি। তাদের বক্তব্য ছিল, দেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট এই ভোটের ওপর প্রভাব ফেলবে, কিন্তু তা হয়নি। যা হয়েছে, তা বর্ণ-বিভেদ কেন্দ্রীক। যখন কংগ্রেস পটেল গোষ্ঠিকে তৈলমর্দন করা শুরু করল, তখন বিজেপি দলিতদের তৈলমর্দন শুরু করল। তাহলে ওবিসি দের কী খবর?
বিজেপি পটেল গোষ্ঠির সংরক্ষণ প্রতিহত করার চেষ্টায় থাকায় কংগ্রেসের ঝুলিতে গেল আদিবাসী ভোট। কংগ্রেসের স্ট্র্যাটেজি কার্যত বিপর্যস্ত হল।
সংবাদমাধ্যমের কথা অনুযায়ী, যদি অর্থনীতির ভূমিকা থাকত, তবে সুরাটে কীভাবে বিজেপি জিতল? বিমুদ্রাকরণ এবং জিএসটি’র পর সুরাটের ব্যবসায়িক সমাজ কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। বিজেপির জয়ের অন্যতম মুখ্য কারণ হল পার্টি ক্যাডারদের শক্তিশালী প্রভাব। অমিত শাহ, ভারতের অন্যতম সেরা ইলেকশন ম্যানেজার বিজেপির পার্টি ক্যাডার। উনি মানুষের পালস্ খুব ভালো বোঝেন এবং তা দিয়ে পার্টিকে কীভাবে লড়াইয়ের জন্য তৈরি করতে হবে তা জানেন। অপরপক্ষে, কংগ্রেসের বিশেষজ্ঞ রাজনীতিবিদরা রাজনীতির চেয়ে বেশি রোড শো-এ বেশি যোগ্য।

দেখাই যাচ্ছে, দরকারে আগামীদিনে কংগ্রেস কোমল হিন্দুত্বের রাজনীতি শুরু করবে। রাম মন্দির ইস্যুতে তারা কী বলে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।

তারা আশা করছে, গুজরাতের ভোটাররা বর্ণ-বিভেদের রাজনীতিকে না করছে, এটা ভারতের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিশা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *