Editorial

কংগ্রেস যদি সিপিআইএম প্রার্থীকে সমর্থন-দেয়, সবং-এ নিশ্চিত হার তৃণমূলের। দেখুন বিশ্লেষণ।

সম্পাদকঃ সবং বিধানসভায় উপনির্বাচন, রাজ্য রাজনীতিতে এই মুহুর্তে সবার নজর সবং বিধানসভার দিকে। মানস ভুঁইয়া এই এলাকার ভূমিপুত্র।

গতবার অর্থাৎ ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মানস পরাজিত করেছিলেন তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলের নির্মল ঘোষকে ৫০১৬৭ ভোটের ব্যাবধানে। ভোট প্রাপ্তির চিত্রটা দেখে নেওয়া যাক। বাম কংগ্রেস জোট প্রার্থী মানস ভুঁইয়া পেয়েছিলেন ১,২৭,৯৮৭ টি ভোট। তৃণমূল প্রার্থী পেয়েছিলেন ৭৭,৮২০ ভোট। বিজেপি পেয়েছিল ৫৬১০ টি ভোট। এসইউসিআই পেয়েছিল ২৪৮৬ টি ভোট।
মানস বাবু ভোট গ্রহণের দিন অভিযোগ করেছিলেন “তৃণমূল ২৩ টি বুথ দখল করেছে, যার ফলে ২৩০০০ ভোটের লিড কমলেও তিনি বাম আর কংগ্রেসের ভোটে জিতবেন কমপক্ষে ৫০০০০ মার্জিনে। বাস্তবেও তাই হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে চিত্র বদলেছে, মানস এখন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ। তার স্ত্রী গীতা দেবি ওই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী এবার। সিপিআইএম প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে। বিজেপি, কংগ্রেস ঘোষণা করার মুখে।
এবার একটু ২০১১ সালের বিধানসভা ভোটের ফলে চোখ বোলানো যাক।
২০১১ সালে এই কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হন কংগ্রেস তৃণমূল জোট প্রার্থী মানস ভুঁইয়া। সেবার তৃণমূলের সমর্থনে মানস যেতেন ১৩০০০ এর কিছু বেশি ভোটে। এই কেন্দ্রে তার নিকট তম প্রার্থী ছিলেন বিপ্লবী বাংলা কংগ্রেসের। মানস বাবু ভোট পান ৯৮,৭৫৫। এবং বিপ্লবী বাংলা কংগ্রেস অর্থাৎ বামফ্রন্টের প্রার্থী ভোট পান ৮৫,৫৭১।
উপনির্বাচনে এবারই প্রথম প্রার্থী দিয়েছে সিপিআইএম। সুতরাং কেন্দ্রটি একেবারেই অন্যরকম ভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
একটু অঙ্কে আসা যাক।
২০১১ অর্থাৎ বাম ভরাডুবির বছরে বাম প্রার্থী এই কেন্দ্রে ভোট পান ৮৫০০০, আর ২০১৬ তে বাম সমর্থিত জোট প্রার্থী মানস ভুঁইয়া ভোট পান ১২৭০০০। অন্যদিকে ২০১১তে তৃণমূল সমর্থিত কংগ্রেস জোট প্রার্থী মানস বাবু ভোট পান ৯৮০০০। সুতরাং একটু ভাল ভাবে লক্ষ করলেই বোঝা যাবে এই কেন্দ্রে কংগ্রেসে ভোট মোটামুটি কত!
ধরে নেওয়া যাক ২০১১ তে যে ভোট বাম প্রার্থী পেয়েছিলেন তা ২০১৬ তে মোটামুটি একই আছে, অবাক হলেন? কারন ২০১৬ তে কংগ্রেসের সাথে জোট অনেক বাম সমর্থকই ভাল চোখে দেখেন নি। নতুন ভোটাররাও বামেদের রক্তক্ষরনের বাজারে বামকে সমর্থন করেন নি! সেক্ষেত্রে বাম ভোট ব্যাঙ্কের(২০১১ অনুযায়ী) যদি ৫% কমিয়ে দেওয়া যায় ২০১৬ তে তাহলে মানস বাবুর ১২৭০০০ ভোটের মধ্যে বাম ভোট আছে ৮৫০০০-৫% = ৮০৭৫০ টি ভোট। বাকি ভোট মানস বাবুর ব্যাক্তি ভোট এবং কংগ্রেসের, যার যোগ ফল = ৪৬,২৫০। এই ভোটের মধ্যে যদি প্রতীক বিহীন মানস বাবুর ৬২৫০ হয় তবে কংগ্রেসের ভোট ৪০০০০।
অন্যদিকে তৃণমূল একক ভাবে গতবার ভোট পেয়েছিল ৭৭০০০। ধরে নেওয়া যাক সেই ভোট অক্ষুন্ন থাকবে, বরং বাড়বে ৫%! তাহলে তা বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৮১০০০ ভোটে।
বিজেপি একটা ফ্যাক্টর ক্রিয়েট করবে, ২০১৬তে ৫০০০ ভোট পাওয়া বিজেপি মুকুল ফ্যাক্টরে যদি তৃণমূল থেকে হাজার তিনেক ভোট টানতে পারে তাহলে তৃণমূলের ভোট দাঁড়ায় ৭৮০০০। যার সঙ্গে মানস বাবুর ব্যাক্তি ভোট অর্থাৎ ৬০০০ ভোট যোগ হলে বেড়ে মোট ৮৪০০০ এ দাঁড়াবে।
সুতরাং অঙ্ক বলছে
এখন একক ভাবে সবং -এ সব দল গুলির অবস্থা অনেকটা এই রকম।
তৃণমূল – ৮৪,০০০
সিপিআইএম(বামফ্রন্ট)- ৮০,৭৫০
কংগ্রেস – ৪০,০০০
বিজেপি – ৮,০০০

অর্থাৎ সবাই আলাদা আলাদা প্রার্থী দিলে তৃণমূলের জেতার সম্ভাবনা বেশি। আর সিপিআইএম প্রার্থীকে যদি কংগ্রেস সমর্থন দেয় ‘মানসের বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিশোধ’ নিতে তাহলে…। বাকিটা আপনারা বুঝে গেছেন। কিন্তু একটা কথা তো বলতেই হয়, এ সবই সম্ভব যদি ভোট হয়!!!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *