কংগ্রেস হাইকম্যান্ড শুধু ক্ষমতার রাজনীতি বোঝে! পোস্ট এডিট




অরুনাভ সেনঃ রাজ্যসভার ষষ্ঠ আসনে বামেদের দাবি অনুযায়ী অরাজনৈতিক প্রার্থীকে মনোনয়নের সিদ্ধান্ত অগ্রাহ্য করে কংগ্রেস দলীয় প্রার্থী দিলো৷

বামেরাও তাদের প্রার্থী হিসেবে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের নাম ঘোষনা করেছেন৷তাৎপর্যের বিষয় বাম-কংগ্রেসের এই মতানৈক্যের ফসল ঘরে তুলতে তৃণমূল, কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের বার্তা দিয়েছে৷অনেকে বলছেন রাজ্য রাজনীতিতে নয়া সমীকরন তৈরী হল কংগ্রেস ও তৃণমূলের কাছাকাছি আসা শুধু নাকি সময়ের অপেক্ষা!কংগ্রেস হাইকম্যান্ড সিপিএমের দেওয়া অরাজনৈতিক প্রার্থী দাঁড় করানোর প্রস্তাব অগ্রাহ্য করে কার্যত বাম-কংগ্রেসের অলিখিত সমঝেতার রাস্তা কেবল বন্ধ করলেন না,বলা ভাল খাল কেটে কুমীর আনলেন৷এমনিতেই বাংলায় কংগ্রেসের সবটাই গ্রাস করে ফেলেছে তৃণমূল৷আগামীদিনে আরো করবেনা তার কোনও গ্যারান্টি নেই৷রাজ্যে তারাই ক্ষমতায়,কখনো প্রলোভন,কখনো মিথ্যে কেস দিয়ে বিরোধী নেতা থেকে জনপ্রতিনিধিদের দলে টেনে অনৈতিক ভাবে দলের বহর বাড়িয়েছে৷প্রদীপ ভট্টাচার্যের বদলে বামেদের দাবি মত যদি কংগ্রেস কোনও অরাজনৈতিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতেন তাহলে কি কংগ্রেসের খুব ক্ষতি হত?বলা ভাল কংগ্রেসের তৃণমূল বিরোধী সত্ত্বাটা বেঁচে থাকতো,কংগ্রেস তৃণমূল বিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারতো,সংগঠনকে শক্তিশালী করার যতেষ্ট সুযোগ পেতো,সর্বোপরি পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করে,ভাল ফল করতে পারলে কর্মী সমর্থকদের চাঙ্গা করতে পারতো,যা হয়ত টনিকে কাজ করত লোকসভা নির্বাচনের সময়৷কিন্তু হাইকম্যান্ডের অনড় মনোভাবে,দলীয় প্রার্থীকে রাজ্যসভায় মনোনয়ন,এবং তৃণমূলের সমর্থন ঘোষনায় কংগ্রেসের রাজ্যে তৃণমূল বিরোধী আন্দোলনের গ্রহনযোগ্যতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হল৷এরপর কংগ্রেসের তৃণমূলের বিরুদ্ধে কোনও আন্দোলনে কি আর বিশ্বাসযোগ্যতা জনমানসে থাকবে?অনেকেই বলছেন বাম-কং জোট ভেঙে গেলো,আসন্ন পঞ্চায়েত বা লোকসভার ভোটে আর উভয়ের মধ্যে আসন সমঝেতার চিত্র দেখা যাবে না,আসলে রাজ্যসভায় হাইকম্যান্ড দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ায় বিপাকে পড়লো প্রদেশ কংগ্রেস নেতারা,যারা ১৬-র বিধানসভা নির্বাচনের আগে বামেদের সঙ্গে জোট করতে প্রচুর কাঠখড় পুড়িয়েছিলেন,তারাও নতুন করে কংগ্রেস-তৃণমূলের সখ্যতা ও সমীকরনের কি ব্যাখ্যা দেবেন?কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের বার্তা দেওয়ার পর যারা দলের অন্দরেই ঘোষিত তৃণমূল বিরোধী তারাই বা এবার কিভাবে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কর্মী,সমর্থকদের কিভাবে চাঙ্গা করবেন?বা তারা কি আর আদৌ সমর্থ হবেন দলে,দলে কর্মী সমর্থক,জনপ্রতিনিধিদের তৃণমূলে যাওয়া আঁটকে রাখতে!কংগ্রেস প্রার্থীকে তৃণমূলের সমর্থন যোগানোর বার্তায় যারপরনাই বিপাকে পড়লেন কংগ্রেসের নেতারাই যারা ঘোষিত তৃণমূল বিরোধী,যারা তৃণমূলের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বকে খোলা চিঠি দিয়েছিলেন!আসলে কংগ্রেস হাইকম্যান্ড বরাবর ক্ষমতাসর্বস্ব রাজনীতির প্রতি আস্থা রেখেছে,তার বড় প্রমান হয়ে রইলো বামেদের দাবি অনুযায়ী সর্বসন্মত ভাবে অরাজনৈতিক প্রার্থী কে মনোনয়ন না দিয়ে রাজ্যসভায় কংগ্রেসের দলীয় প্রার্থী দেওয়ায়৷






Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*