Editorial

“এবার খেলা জমবে বাংলা”। শুভ্রাংশু – মুকুল সমীকরণ কি আসলে রাজনৈতিক কৌশল? সম্পাদকীয়

সম্পাদক, নজরবন্দিঃ গতকাল সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদ্মেই ফুটেছে মুকুল। খোদ দিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে যোগদান করেন তিনি।


আর বিজেপিতে যোগদান করেই তার ঘোষণা, বাংলার মানুষ হাঁপিয়ে উঠেছে। তাই দরকার আর একটা পরিবর্তনের। সেই পরিবর্তন ঘটবে ২০২১ সালে বিজেপির নেতৃত্বে অমিত শাহ এবং নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে। দিল্লিতে যখন এই ঘটনা ঘটছে তখন রাজ্যে তারই ছেলে তথা বীজপুর কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক শুভ্রাংশু রায় বলছেন, “বাবার সঙ্গে আমি সহমত নই। তৃণমূলে ছিলাম, আছি এবং থাকব”। আর এর পরেই তোলপাড় পড়ে যায় রাজ্য রাজনীতিতে। তাহলে কি বিচ্ছেদ হয়ে গেল বাবা-ছেলের? এও কি সম্ভব? তবে বাবা ছেলের ভিন্ন রাজনীতির সমীকরণ এদেশে বিরল নয়। কিন্তু, একটা ‘কিন্তু’ আছে। আর সেই ‘কিন্তু’ ঘিরেই আতঙ্কিত তৃণমূল। এই ‘কিন্তু’ হলেন খোদ মুকুল রায়। যদি লোকটির নাম মুকুল রায় না হয়ে রাম শ্যাম যদু বা মধু হত তাহলে হয়তো সন্দেহের অবকাশ থাকতো না যে, বাবা গেলেও ছেলে থাকবে শাসক শিবিরে। কিন্তু যত সমস্যা এই মুকুল রায় নামটিকে ঘিরেই। বঙ্গ রাজনীতিতে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সিপিআইএম নেতা অনিল বিশ্বাসের পর চানক্য নাম যদি কারো হয় তা এই মুকুল রায়ের। প্রশ্ন উঠছে, শুভ্রাংশু বাবার ইঙ্গিতেই চলছেন না তো? হতেও তো পারে এটা একটা রাজনৈতিক কৌশল। সূত্রের খবর, আসলে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব কারা তা শীর্ষ নেত্রীই আজকাল ঠিক বুঝতে পারছেন না। কার্যত ঠগ বাছতে গাঁ উজার হওয়ার যোগাড়। আর সর্ষের মধ্যে যে ভূত আছেই তা বুঝতে বিরাট রাজনৈতিক জ্ঞানের দরকার পড়ে না। কারণ, গোটা রাজ্য জুড়ে বিশেষত তৃণমূল অধ্যুষিত এলাকা গুলিতে প্রায় হাজার দশেক শুভেচ্ছা সহ মুকুল রায়ের ফ্লেক্স-ব্যানার-পোস্টার পড়লো, আর তৃণমূল নেতারা আজও খুঁজে পেলেন না সেই ফ্লেক্স-ব্যানার-পোস্টার কারা ফেললো! এটা কি হতে পারে? আর যদি হয় তাহলে সেই সেই এলাকার তৃণমূল নেতাদের নেটওয়ার্ক সম্বন্ধে একটা বড় জিজ্ঞাসা চিহ্ন পড়ে না কি? যা ই হোক, ভবিষ্যৎ বলবে, ২০২১-এ রাজ্যে শেষ কথা বলবে কারা? বিজেপি-তৃণমূল? নাকি মুকুল-মমতা?
অন্য প্রসঙ্গে আসা যাক। এখনো অনুর্ধ ১৭ বিশ্বকাপের জট থেকে আড়মোড়া ভেঙে ওঠেনি বাঙালি। এখনো আপনি যেকোনো রাস্তার বাইরে দাঁড়িয়ে একটু এদিক অদিক তাকালেই আপনার চোখে পড়বে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর হাসিমুখের সাথে একটি পোস্টার। এবার খেলা জমবে বাংলা। বাংলার খেলা সত্যিই জমেছিল। যুবভারতীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন ফিফার কর্তারা। আর এবার মুকুল রায় বিজেপিতে যোগদান করার পর বঙ্গ রাজনীতিতে যে পরিবর্তন আসতে চলেছে তারও স্বাদ পাবে নিশ্চয়ই বাঙালি। তাই এক্ষেত্রেও বলা চলে, “এবার খেলা জমবে বাংলা”!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *