হ্যামেলিনের বাঁশিওয়ালা কানহাইয়া-র জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার করুক বাম নেতৃত্ব৷

অরুনাভ সেনঃ ট্র্যাম্পকার্ড কানহাইয়া কুমারের জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার করুক বাম নেতৃত্ব৷

কানহাইয়া কুমারকে বিজেপির কালো পতাকা দেখানো,কিংবা তাকে লক্ষ করে ডিম,টম্যাটো ছোঁড়া প্রমান করে তার জনপ্রিয়তা এতটুকু হ্রাস পায়নি,বরং কানহাইয়া কুমার সেই মতবাদের প্রবক্তা যেখানে আছে বিকল্প অর্থনীতির ভাবনা ,যে অথর্নীতি সমাজের আর্থিক বৈষম্যকে,জাতপাতের বিভেদকে পিছনে ফেলে নতুন ভারতবর্ষের স্বপ্ন দেখায়,স্বপ্ন দেখায় দেশে দারিদ্র্যতা থাকবেনা,জাতপাতের বিভেদ থাকবেনা,সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জন্য থাকবে কর্মের অধিকার,শিক্ষার অধিকার,সর্বোপরি সাম্যের অধিকার৷ সন্দেহের অবকাশ নেই সেই স্বপ্ন দেখাচ্ছেন কানহাইয়া কুমার তাইতো তিনি হয়ে উঠেছেন নতুন প্রজন্মের যুবক,যুবতীর কাছে আইকন৷ তিনিই সেই হ্যামেলিনের বাঁশিওয়ালা৷ তিনি হয়ে উঠেছেন আইকন,ভারতবর্ষে কমিউনিষ্ট আন্দোলনে নতুন নেতা,যার বক্তৃতা শুনতে মানুষ ছুটে যান একপ্রান্ত থেকে আর এক প্রান্ত৷শহর কলকাতার মানুষ তার বক্তব্য শুনেছেন,তাকে নিয়ে বাম কর্মী,সমর্থকদের উন্মাদনা ছিলো চোখে পড়ার মত৷কানহাইয়া কুমারের আবেগমিশ্রিত অথচ যুক্তিপূর্ন কথাগুলো যেন বারবার প্রতিফলিত হচ্ছে সেই সব সৌভাগ্যবান শ্রোতাদের কানে যারা নিজের কানে শুনেছেন দেশের বাম আন্দোলনের নতুন আইকন কানহাইয়া কুমারের বক্তব্য৷ বাম আন্দোলনের অনেক,নেতা,কর্মী ভাল বলেন সুবক্তা,কিন্তু তারা হ্যামেলিনের বাঁশিওয়ালা নন,তাদের বক্তব্য শুনতে সাম্প্রতিক কালে সাধারন মানুষের মধ্যে এত উন্মাদনার নজির কিন্তু চোখে পড়েনি৷যে নিন্দুকেরা বলেন বামেরা দেশের ক্ষয়িষ্ণু শক্তি,তারাই কিন্তু প্রমাদ গুনছেন কানহাইয়া কুমারকে নিয়ে আবালবৃদ্ধ বনিতার আবেগের বহিঃপ্রকাশে,আসলে বামপন্থী তরুন এই নেতাটি যেন এলেন,দেখলেন আর জয় করলেন৷ কলকাতায় মাত্র কয়েকটি সভা করে,জনতার মাঝে তার আগুনে বক্তৃতায় তিনি প্রমান করেছেন বাম আন্দোলনে জনপ্রিয়তম মুখ হয়ে উঠতে চলেছেন তিনি৷ এখনই জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বি,পা সেই মাটিতেই,বলেন সহজ,সরলভাবে অথচ প্রতিটি কথায় আছে বিজেপির প্রতি প্রশ্নমালা,যার সম্ভবত উত্তর নেই বিজেপির কাছেও! তাইতো তাকে ডিম,টম্যাটো ছোঁড়ার চেষ্টা করা হয়েছে,তাতে কানহাইয়ার হিরকখোচিত আভা এতটুকু অনুজ্জল হয়নি,বরং কানাহাইয়াকে ডিম,টম্যাটো ছুঁড়ে বিজেপি মনোভাবাপন্ন সেই সব মানুষেরা বকলমে প্রমান দিলেন কানহাইয়া কুমার সত্যিই জনপ্রিয়,তিনি বিজেপির মাথাব্যাথার কারন,তিনি বাম আন্দোলনে এই মুহুর্তে জনপ্রিয়তম ব্যক্তিত্ব৷এই তরুন বাম নেতার জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার করতে হবে বাম নেতৃত্বকে৷কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারীর মানুষকে শোনাতে হবে কানহাইয়ার বক্তৃত্তা৷ এখনই সেই মাহেন্দ্রক্ষন৷ বাংলায় কানহাইয়ার আরো সভা হোক,শুধু শহর কলকাতা নয় গ্রাম বাংলার প্রত্যন্ত এলাকায়,জেলা শহরে যাতে কানহাইয়া কুমারকে মানুষ দেখতে পান,তার বক্তব্য মানুষ শুনতে পারেন সেই বিষয়ে এখনই ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহন করুক রাজ্য বামফ্রন্ট৷ সন্দেহের অবকাশ নেই কানহাইয়া কুমার জেলায় আসলে বাম আন্দোলনে আবার মরা গাঙে বান আসবে,কারন তিনিই সেই হ্যামেলিনের বাঁশিওয়ালা যার কথা শুনতে,যাকে সচক্ষে দেখতে মানুষ পাগলের মত এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত ছুটে যান,শুধু এটুকু শুনতে নতুন কি বলবেন কানহাইয়া কুমার৷বামপন্থীদের এই ট্র্যাম্পকার্ডকে এবার ব্যবহারের সময় এসছে,ভারতের প্রতিটি অঞ্চলের মানুষের কানে পৌঁছে যাক কানহাইয়া কুমারের কথা,তার বক্তব্য,বাম আন্দোলনের মুল সুর,যে সুরে আছে সাম্যের অধিকারের কথা,জাতপাতহীন ভারতবর্ষের কথা,যে সুরে আছে প্রতিটি ভারতবাসীর শিক্ষা,স্বাস্থ্য ও কর্মের অধিকার সুরক্ষিত করতে বামেদের আন্দোলনের কথা৷

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*