“ওদের হিম্মত হয় না বিধায়ক পদ ত্যাগ করে দল বদলের” পড়ুন পোস্ট এডিট।

অরুনাভ সেনঃ রানাঘাট উত্তর পশ্চিমের বিধায়ক শঙ্কর সিংহের সঙ্গে দলত্যাগ করলেন শান্তিপুরের বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্য৷ অবশ্য নৈতিকতা চুলোয় রেখে এরা বিধায়ক পদ ত্যাগের ধার ধারেন নি!সম্ভবত রাজ্যের মানুষ সেই আশা করেন না৷ অনেক বলেন রাজনীতি নাকি সম্ভাবনার এক অনন্য রসায়ন!
আদৌ কি তাই?হতে পারে কখনো কখনো শত্রুর শত্রু মিত্র হয়,হতে পারে সিচ্যুয়েশান ডিমান্ডস সাম ডিফারেন্স এই আপ্তবাক্য মাথায় রেখে কখনো,কখনো রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব বা রাজনৈতিক দল আদর্শগত ভাবে ভিন্ন মেরুতে অবস্থান করা অন্য মানুষ বা দলের সঙ্গে সমঝেতা করে বিশেষ কোনও ইস্যুতে৷কিন্তু শঙ্কর সিংহ,এবং অরিন্দম ভট্টাচার্য ঠিক কোন ইস্যুতে দলত্যাগ করলেন,বিধায়ক পদ না ছেড়ে? আসলে বাংলাকে বিরোধীশুন্য করার প্রয়াস অনেক আগেই শুরু হয়েছে৷কখনো পদের প্রলোভন,কখনো মন্ত্রীত্বের প্রলোভন,কখনো মিথ্যে কেস,কখনো বা রাজ্যসভায় পাঠানোর প্রলোভনে বিরোধী কন্ঠ বাংলায় স্তব্ধ করতে যতটুকু করার তৃণমূল সবটাই করছে৷একদা শঙ্কর সিংহের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন তৎকালীন যুব কংগ্রেস সভানেত্রী,কার্যত তার গায়ে সমাজবিরোধীর তকমা লাগানো হয়েছিলো,তাকেই কিনা তার হাতে তৈরী তৃণমূল কংগ্রেসে সাদরে বরন করা হচ্ছে!এটাই তৃণমূল কংগ্রেস৷মুখে মা,মাটি আর মানুষের মত পবিত্র স্লোগান,কাজে ঠিক উল্টো,রাজ্যে ক্ষমতা ধরে রাখতে যা,করনীয় সবটাই করে যাচ্ছে নাক লজ্জার মাথা খেয়ে৷আসলে তৃণমূল জানে দল যদি কোনওদিন বাংলায় ভোটে পরাজিত হয়,চিরকালের মত তৃণমূল কংগ্রেস মুছে যাবে বাংলার রাজনৈতিক ম্যাপ থেকে৷আর সেই কারনেই প্রশাসনিক,অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার কদর্য এবং কুৎসিত প্রয়োগ করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার খেলায় মত্ত তৃণমূল কংগ্রেস৷যিনি সমাজবিরোধী ছিলেন একদা যুব কংগ্রেস নেত্রীর চোখে, তিনি বিধায়ক হয়ে তৃণমূলে যোগদান করছেন,সংবর্ধনা পাচ্ছেন,সবাই সাধু,সাধু রব তুলছেন,কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন বটে তবে বড্ড নরম সুরে,সেই স্বর যেমন জনমানসেকে আন্দোলিত করতে পারছে না,তেমনই তৃণমূলের অন্দরে বিবেকবানদের সংগঠিত করতে পারছে না৷চলুন বরং একবার দেখে নিই তৃণমূল কংগ্রেসের সামগ্রিক কর্মকান্ড৷বদলা নয় বদল চাইয়ের স্লোগানে ১১- এর মেকি পরিবর্তনে তৃণমূল বলেছিলো দেবে পরিস্কার,পরিচ্ছন্ন প্রশাসন৷অথচ কেলেঙ্কারির স্রোত বাঁধ ভাঙা নদীর ন্যায় প্রবেশ করেছে দলেরই অন্দরে৷তাদেরই শাসনকালে অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারি, চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে নাম জড়ালো তৃণমূল কংগ্রেসের৷প্রাক্তন পরিবহন মন্ত্রী মদন মিত্রকে সারদার সঙ্গে সংশ্রবের অভিযোগে জেল খাটতে হল,রোজভ্যালি কেলেঙ্কারিতে গ্রেফতার হলেন দলের দুই সাংসদ,অবশ্য সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জামিন পেলেও এখনো জামিন পাননি তাপস পাল৷ উল্টোদিকে গোদের ওপর বিষফোঁড়া নারদ স্টিং ফুটেজ৷ সেখানেও দলের হেভিওয়েটদের ক্যামেরার সামনে টাকা নিতে দেখা গিয়েছে৷এত কেলেঙ্কারি আর দুর্নীতির পর এই দলের মুখে মা,মাটি,মানুষের মত পবিত্র স্লোগান মানায়?আসলে তৃণমূলের অন্দরের আপ্তবাক্য হল দল করো,ভোটে জিততে অবৈধ যাবতীয় পথের অনুমোদন দল দেবে,স্রেফ তৃণমূলে যোগদান করে নিশ্চিত করতে হবে আবার একটা বিধানসভা যেন তৃণমূল জেতে,পঞ্চায়েতগুলো যেন বিরোধী শুন্য হয়,পুরসভাগুলিতে যেন কিছুতেই বিরোধীরা না জিততে পারে৷তাহলে সব ঠিক,যাবতীয় অনিনয় নিয়মে রূপান্তরিত করার টাটকা লাইসেন্স একেবারে হাতে৷ এই গৌরচন্দ্রিকা করতে হল একদা যুব কংগ্রেস নেত্রীর চোখে যিনি ছিলেন সমাজবিরোধী তিনি সেই নেত্রীর নতুন দল তৃণমূল কংগ্রেসে স্বাগত,কারন তিনি বিধায়ক৷অথচ এই শঙ্কর সিং,বা অরিন্দম ভট্টাচার্যদের হিম্মত হয়না বিধায়ক পদ ত্যাগ করে দল বদলের৷ তাদের বিবেক দংশিত হয়না আমরা কাদের ভোটে জিতেছি,তাদের সাথে আমরা প্রতারণা করছি,নাকি এসব বিবেক,নৈতিকতা সব হারিয়ে ফেলেন জণপ্রতিনিধিরা একবার ভোটে জিতলে?

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*