চিটফান্ডের পর নারদ তদন্ত প্রহসনে পরিণত করার চেষ্টায় বিজেপি-তৃণমূল৷

অরুনাভ সেনঃ চিটফান্ডের পর নারদ কান্ডে তদন্তের নামে প্রহসন চলছে৷দীর্ঘ টালবাহনার পরে যাদের ক্যামেরার

সামনে টাকা নিতে দেখা গিয়েছিলো নারদ স্টিং ফুটেজে তাদের অনেকেই ইডি,সিবিআইয়ের সাথে লুকোচুরি খেলার পর সবে হাজিরা দিতে আরম্ভ করেছেন৷এখন অবশ্য যাদের ক্যামেরার সামনে টাকা নিতে দেখা গিয়েছিলো তারা কেউ দাবি করছেন না ভিডিও জাল বরং তাদের বিবৃতি টাকা নিতে পারি,নিয়েছি টাকা ব্যয় করেছি সামাজিক কাজে,ক্লাবে৷অর্থাৎ ভোটের আগে তৃণমূলের যেসব নেতা,মন্ত্রী দাবি করলেন ভিডিও জাল,কেউ টাকা নেননি,তারা ভোটের পর আবার ক্ষমতায় এসে মন্ত্রী হয়ে কার্যত স্বীকার করে নিচ্ছেন তারা টাকা নিয়েছিলেন৷অবশ্য তৃণমূল কংগ্রেসে কোনও কিছুই অসম্ভব নয়৷খোদ দলনেত্রী বলেছিলেন আগে জানলে এদের টিকিট দিতেন না,ভোটের পরে অবশ্য রাজনৈতিক চক্রান্তের অভিযোগ করেছেন৷আসলে তৃণমূল কংগ্রেস আপাদমস্তক একটি সুবিধাবাদী দল, ঘটনাচক্রে বাংলার ক্ষমতায়৷মিথ্যা পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখিয়ে বাংলার মানুষকে বিভ্রান্ত করে বাংলার ক্ষমতা দখল করলেও বিতর্ক আর দুর্নীতি দলটির পিছু ছাড়েনি৷বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে তৃণমূলের আগে কোনও শাসক দলের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠিনি৷তৃণমূল ব্যতিত কোনও রাজনৈতিক দলের নেতা,মন্ত্রীদের আয় মাত্র ৫/৭বছরে লাফিয়ে,লাফিয়ে বাড়িনি৷অথচ একসময় এরাই দাবি করতেন দলটি নাকি আপাদমস্তক সৎ,সততা বিক্রি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করে,ভুয়ো পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখিয়ে দলটি বাংলার ক্ষমতা দখল করলেও বিতর্ক তাদের পিছু ছাড়েনি কোনওদিন৷সারদা সহ অন্যান্য চিটফান্ডে বাংলার কোটি কোটি মানুষ সর্বস্ব খুইয়েছেন,তাদের টাকা ফেরতের বিষয়ে উচ্চবাচ্য নেই কারো,নিন্দুকের অভিযোগ কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তৃণমূলের সেটিংয়ে এখন আর লুকোছাপার কিছুই নেই,বরং সংসদে বিভিন্ন ইস্যুতে তৃণমূল বিজেপিকে সহযোগিতা করেছে বদলে আদায় করেছে সারদা থেকে নারদে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলি তাদের যেন বিব্রত না করে তার গ্যারান্টি৷হঠাৎই ইডি দফতরে হাজিরা দিচ্ছেন শাসক দলের নেতা মন্ত্রীরা, এতদিন কেন দেননি?নিন্দুক বলছেন তৃণমূলের দূত হয়ে যাওয়া মুকুল রায়ের সঙ্গে অরুন জেটলির প্রাতরাশেই নাকি আবার তৃণমূল বিজেপির অলিখিত সেটিং রূপায়িত৷নিশ্চিত আশ্বাস বিজেপির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে তৃণমূলকে দেওয়া হয়েছে,নারদ কান্ডে তাদের বিব্রত করবে না সিবিআই বা ইডি,আর সেইজন্য এতদিন সময় না পেলেও হঠাৎ ইডি দফতরে তৃণমূলের নেতা,মন্ত্রীদের হাজিরার পরিসংখ্যান দ্রুত বদলাচ্ছে,যারা এতদিন নানা অজুহাতে হাজিরা দিচ্ছিলেন না, তারা হঠাৎ কোন কেন্দ্রীয় সরকার তথা বিজেপির উচ্চ নেতৃত্বের কোন আশ্বাস,প্রতিশ্রুতি পেয়ে নারদ কান্ডে ইডি দফতরে হাজিরা দিচ্ছেন,তারা বলতেই পারেন তদন্তে সহযোগিতা করতে হাজিরা,যদি তদন্তে সহযোগিতাই তাদের উদ্দেশ্য হবেঅতদিন কেন ইডি,সিবিআইয়ের সাথে লুকোচুরি খেললেন?যদিও বিরোধীরা অভিযোগ করছেন আসলে হাজিরা না দেওয়া,আবার এখন নতুন করে হাজিরা আসলে সময় চুরির চেষ্টা,নারদ তদন্তকে প্রহসনে পরিণত করার চেষ্টা৷

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*