সিপিআইএম-এর নতুন দ্বিচারিতার নজির! দিশাহীন নেতৃত্ব? পড়ুন পোস্ট এডিট

সম্পাদকঃ GST র প্রনেতা অসীম দাশগুপ্ত। ১১ বছর GST কাউন্সিল এর চেয়ারম্যান ছিলেন। কাঠামো ওনার হাতে তৈরি। গতকাল রাতে স্বয়ং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুন জেটলি অসীম দাসগুপ্ত কে উল্লেখ করে বলছেন, আমি GST- প্রথম শিক্ষা ওনার কাছ থেকেই পেয়েছি।
সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে দাঁড়ানো দুটি দলের মেলবন্ধনের নজির আর কি হতে পারে? যদি আরও অতীতে যাওয়া যায় তাহলে সামনে আসে জ্যোতি বসুর প্রসঙ্গ, ১৯৯৯ সালে জিএসটির ভাবনাকে প্রথম ছাড়পত্র দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী। জিএসটির কাঠামো তৈরির জন্য ২০০০ সালে গঠন করেন বিশেষ কমিটি। সেই কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয় সম্পূর্ণ সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর রাজনৈতিক নেতা পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন অর্থমন্ত্রী অসীম দাশগুপ্তকে। অসীমবাবুকে এই কাজ করার জন্য মন্ত্রিত্বের দায়িত্বের ফাঁকে সময় দেওয়ার জন্য জ্যোতি বসুকে ফোনে অনুরোধও করেন বাজপেয়ী। সেই অনুরোধ মেনে নেন রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী।

(আরও পড়ুনঃ “গুডস অ্যান্ড সার্ভিস ট্যাক্স”, দেখে নিন একনজরে। কোথায় দাম বাড়ল কোথায় কমল?)

দায়িত্ব পেয়ে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, শিল্পপতি-সহ সংশ্লিষ্ট সমস্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করেন অসীমবাবু। তিনি একাজ করতে করতেই ২০০৪ সালে পতন ঘটে এনডিএ সরকারের। প্রধানমন্ত্রী হন মনমোহন সিংহ। তিনিও আস্থা রাখেন অসীমবাবুর ওপরেই। প্রায় ৭ বছর কয়েক ডজন বৈঠকের পর জিএসটির কাঠামো চূড়ান্ত করেন অসীম দাশগুপ্ত। এর পর জিএসটি বিলের খসড়া তৈরি করতে আরেকটি কমিটি গঠন করেন মনমোহন সিং।
২০১১ সালে বাম সরকারের পতনের সময় জিএসটি সংক্রান্ত ‌যাবতীয় কাজের ৮০ শতাংশ শেষ হয়ে গিয়েছে। গোটা দেশের Tax কাঠামো বামপন্থীদের হাতে তৈরি এ কম বড় গর্বের বিষয় নয় বামপন্থীদের তথা সিপিআইএম এর কাছে। এমন কি GST-র কাউন্সিলের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে ত্রিপুরার অর্থমন্ত্রী বাদল চৌধুরী, কেরলের অর্থমন্ত্রী টি.এম. থমাস আইজেক। দুটোই বাম শাসিত রাজ্য। এছাড়াও কে.এন. বালাগোপাল, সিপিআইএম সাংসদ, ওই(GST) কমিটির মেম্বার!
তাহলে রাত ১২টায় সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে সংসদে বাম সাংসদেরা নেই কেন? প্রশ্ন ওঠে এই দ্বিচারিতা কেন?
সূত্রের খবর বাম সাংসদদের ওপর মৌখিক হুইপ জারি করা হয় যেন তাঁরা ওই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী না হয়। আমাদের প্রতিনিধি ‘সাসপেন্ডেড’ সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে যোগাযোগ করলে, তিনি সংসদ ভবনে না যাওয়ার কারন হিসেবে বলেন দলীয় নির্দেশ! সুত্র বলছে একাধিক সাংসদ দিল্লিতে উপস্থিত থাকলেও যেতে দেওয়া হয়নি কাউকেই, কেন? দলীয় নীতি? তাহলে অসীম দাসগুপ্ত কি দলের বাইরে? টাইমস নাও এর সিনিয়র রিপোর্টার ময়ুখ রঞ্জন ঘোষের করা প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান অসীম দাসগুপ্ত। প্রশ্ন টি ছিল ARE U IN FEVOUR IN THE (CPIM)BOYKOT? অসীম দাসগুপ্ত বলেন I WAS THE PAST CHAIRMAN OF THE EMPOWERED COMITEE WHICH INTRODUCED THE VAT AND ALSO THE GST.
দেখুন কি বললেন অসীম দাসগুপ্ত।

বামপন্থী দল গুলি এখানে নামাজ পড়ে বা ওখানে রথের দড়ি টেনে চলে যা একটা নির্দিষ্ট নীতির ভিত্তিতে চলে। এখানে তাও আবার অর্থনীতি এবং তারও ভাগ আছে মূলত গরীব মানুষের কিসে লাভ হবে সেই দিকে তাকিয়ে!
নোটবন্দীর ৫০ দিন অর্থনৈতিক ইসু যা সম্ভবত আমাদের জীবনদশায় আর হবে না! ঐ সময় বামেরা নোটবন্দীর বিরুদ্ধে না প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে তা ঠিক করতেই সময় কেটে গেছিল। কোন রাজনৈতিক লাভ ওঠাতে পারেনি। এবার সুর্বন সুযোগ কোন বামপন্থীর হাতে তৈরি নীতি দেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরাবে এর থেকে সুখের কিছু হয় না। তাঁর পরেও? আসলে কি চাইছে বামেরা? দিশাহীন হয়ে পড়ছে দিন দিন? কেন?

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*