‘রক্তক্ষরন’ শেষে ‘জনতার নেতা’ গৌতম গড়ে কামব্যাক ঋতব্রত-র। ঝড়ের পূর্বাভাস সিপিএমে?

“৯০ দিন ধরে আমি রক্তাক্ত হচ্ছি। যাঁরা আমাকে সমর্থন করেছেন এবং পাশে থেকেছেন, তাঁদের ধন্যবাদ।

অগণিত বাম সমর্থকের জন্য আমার মুখ খোলা প্রয়োজন। সেটা আমার কর্তব্য।” সম্মুখ সমরে সিপিআইএম সাংসদ ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়? প্রশ্ন তো উঠবেই কারন ঋতব্রতর সাসপেনশনের মেয়াদ ছিল তিন মাস। অর্থাৎ, ৯০ দিন। সেই সময়ে ঋতব্রত প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। কিন্তু সোমবার তিনি টুইট করে জানান, তিনটি অডিও টেপ তাঁর কাছে রয়েছে। জনগণের তা শোনা উচিত। তার পরেই শোরগোল পড়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে।
এদিন শিক্ষক দিবসে ঋতব্রত সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও একটি পোস্ট করেছেন, আপাত দৃষ্টি তে পোস্ট টি নির্বিষ মনে হলেও তা যে মোটেই নির্বিষ নয় তা মেনে
নিচ্ছেন রাজ একটি পোস্টারও সেঁটেছেন। সেটিও যথেষ্ট কৌতূহলোদ্দীপক। প্রয়াত সুভাষ চক্রবর্তী এবং প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম দেবের ছবি পোস্ট করে ঋতব্রত তার নিচে লিখেছেন— ‘‌কোটার নয়, জনতার নেতা। শিক্ষক দিবসে শ্রদ্ধা।’‌ প্রসঙ্গত, ফেসবুকে এই দুই নেতার ছবি পোস্ট করা নিয়েই ঋতব্রতকে দলীয় কমিশনে জবাবদিহি করতে হয়েছিল!
img-20170905-wa0014
আবার একই দিনে দলের সাসপেনশন উঠে যাওয়ার পর তাকে দলের সভায় প্রধান বক্তা করে ফিরিয়ে আনেন উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সম্পাদক তথা সিপিআইএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গৌতম দেব। এদিন গৌতম বাবুরই পুরনো নির্বাচনী এলাকা হাসনাবাদের ভেবিয়ায় দলের কর্মসূচিতে গিয়েছিলেন ঋতব্রত।
হাসনাবাদ ভেবিয়া বাসস্ট‍্যান্ডের সভায় ঋতব্রত তার সাংসদ তহবিল থেকে ভেবিয়া উচ্চবিদ‍্যালয়ের ল‍্যাবোরেটরির জন‍্য ১০ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা ঘোষনা করেন। সভায় ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত।
img-20170905-wa0025

অন্যদিকে পলিটব্যুরোর তলবি চিঠির জবাবে দমে যাওয়া তো অনেক দূরের কথা বরং আক্রমণের সুর আরও চড়ালেন গৌতম দেব!
উল্লেখ্য, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলায় গৌতমবাবুর ব্যাখ্যা চেয়েছিল সিপিআইএমের পলিটব্যুরো। তার জবাব দিতে গিয়ে গৌতমবাবু আবার নাম না করে প্রকাশ কারাটদের বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের হাতে পড়ে বাংলার স্বার্থ বারবার উপেক্ষিত হয়েছে। যত দিন বাংলা ভোটে জিতিয়ে বেশি বেশি সাংসদ দিয়েছে, দিল্লিতে সিপিআইএমের দাপটও তত বেড়েছে। তার মতে বাংলার স্বার্থ একটা দল দেখবে না, আবার বাংলার মানুষের কাছে ভোটও চাওয়া হবে, এই দুই দিক একসঙ্গে রাখা যায় না!

1 Comment

  1. কমিউনিস্ট পার্টি তে কি ব্যক্তি অপরিহার্য ?
    নাকি রিতো না থাকলে পার্টি তাই থাকবে না ?
    কাজ নেই ব্যক্তি প্রচারে ব্যস্ত নজরবন্দী
    অভ্যন্তরীণ বিষয় গুলো প্রকাশ্যে না আনলেই নয় ?
    কে ভালো আর কে মন্দ তা ঠিক করার দায়িত্ব আপনারা নিয়েছেন ?
    কে ঠিক আর কে ভুল তাদের নিজেদের ঠিক করতে দিন ।
    একটা কথা মাথায় রাখবেন লড়াইয়ের বুলি আউরে লড়াকু হওয়া যায় না ।
    দয়া করে বন্ধ করুন এসব
    লাল ঝান্ডা টা সোজা করে রাখতে আমাদের জীবন এক প্রকার বিপন্ন শত্রুর আক্রমণে , আর আপনারা কূট কাচালি করে বেড়াচ্ছেন

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*